ফোন হারিয়ে গেলে আপনার করণীয় কী?

 ফোন হারিয়ে গেলে আপনার করণীয় কী?

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করেছে। মানুষ এখন ঘুম থেকে উঠে ঘুমাতে যাওয়া পযর্ন্ত সব সময় প্রযুক্তির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। আর সেই প্রযুক্তির একটি বড় অংশ হলো স্মার্টফোন। দিনে  দিনে  এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্মার্টফোনের কারণে আমাদের দৈনন্দিন কাজ যেমন সহজ হয়েছে তেমনি কিছু জটিলতারও সৃষ্টি হয়েছে।



স্মার্টফোনেই থেকে যাচ্ছে মানুষের কর্মক্ষেত্র ও ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয় সব তথ্য। ফলে ফোনটি হারিয়ে বা চুরি-ছিনতাই হলে হেনস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে ব্যবহারকারীকে।


শখের স্মার্টফোনটি হারিয়ে, চুরি বা ছিনতাই হলে অনেকেই বুঝতে পারেন না কী করণীয়? অনেকে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন, নানানজনের কাছ থেকে নানা পরামর্শ নেন। কিন্তু, সেসব পরামর্শে কাজ না হলে হাত গুটিয়ে বসে থাকেন।


তবে আপনার যদি জানা থাকে ফোন হারিয়ে গেলে করণীয় কী তাহলে আপনি সহজেই আপনার হারানো স্মার্টফোন খুঁজে পেতে পারেন।


আপনার ফোন যদি অ্যান্ডয়েড হয়ে থাকে; তাহলে তা খুঁজে বের করা সম্ভব। আবার চুরি বা হারিয়ে গেলে কম্পিউটার থেকে স্মার্টফোন লক করে, সব ডেটা মুছে দেওয়াও সম্ভব। কীভাবে এই ফিচার কাজ করবে, তা জানার আগে কয়েকটি বিষয় বুঝে নিন।


ফোনে এখন থেকেই এই ফিচার চালু রাখার জন্য কিছু অপশন আপনাকে এনাবল করে রাখতে হবে। যেগুলো এনাবল করা না থাকলে আপনার ফোন হারিয়ে গেলে এই ফিচার কাজে আসবে না।


আপনার ফোনের লোকেশন অ্যাকসেস অন থাকতে হবে। সঙ্গে ‘ফাইন্ড মাই লোকেশন’ এনাবলও করে রাখতে হবে। এ ছাড়াও একটি গুগল অ্যাকাউন্টে লগ ইন করা বাধ্যতামূলক।


আবার মোবাইল ডেটা বা ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে স্মার্টফোন ইন্টারনেটের সঙ্গে কানেক্ট করেও রাখতে হবে। সেইসঙ্গে গুগল প্লেতে ভিসিবেল থাকতে হবে সেই ফোন। এবার জেনে নিন আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন হারিয়ে গেলে কী করবেন?


>> আপনার কাছে যে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস আছে; সেখানে গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করুন।

>> এবার https://www.google.com/android/find ওয়েবপেজ ওপেন করুন।



  •  ‘Find My Device’ ওয়েবপেজ ওপেন করলেই আপনার হারিয়ে যাওয়া ডিভাইসে একটি নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

  •  আপনার ফোনে কোনো নোটিফিকেশন না গেলে ফোনের পাশে থাকা রিফ্রেশ বাটনে ক্লিক করুন।

  • এরপর আপনার হারিয়ে যাওয়া ফোনে একটি নোটিফিকেশন যাবে। তখনই আপনি সেই ফোনে সম্ভাব্য লোকেশন ম্যাপের মধ্যে দেখতে পাবেন। লাইভ লোকেশন অন না থাকলে ডিভাইসের শেষ লোকেশন ম্যাপে দেখাবে।

  •  এবার প্লে সাউন্ড, সিকিউর ডিভাইস, ইরেজ ডিভাইস অপশনগুলো দেখতে পাবেন। প্লে সাউন্ড অপশন সিলেক্ট করলে আপনার ফোন ৫ মিনিট ধরে বাজবে। সাইলেন্ট বা ভাইব্রেশন মোডে থাকলেও ফোনটি বাজবে।

  • সিকিউর ডিভাইস অপশন সিলেক্ট করলে, রিমোটলি আপনি নিজের ফোন লক করে দিতে পারবেন। একটি পাসওয়ার্ড অথবা পিনের মাধ্যমে লক হয়ে যাবে হারিয়ে যাওয়া ডিভাইস। এ ছাড়াও লক স্ক্রিনে মেসেজ পাঠিয়ে ফোন যার কাছে আছে; তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

  • ইরেজ ডিভাইসে ক্লিক করলে ফোনের সব ডেটা ডিলিট হয়ে যাবে। একবার ডেটা ডিলিট হলে তা আর কখনোই ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।


আইনের সেবাঃ


চুরি-ছিনতাই হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া ফোনটি খুঁজে পেতে  যেটি করতে হবে, সেটি হলো আপনার নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে। কারণ, স্মার্টফোন ও ফোনে থাকা সিম দিয়ে হয়তো অপরাধীরা গুরুতর কোনো অপরাধ করতে পারেন। এতে আপনার ওপর তার দায়ভার চলে আসতে পারে অজান্তেই। সেই সাথে আপনার মোবাইল ফোনটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন: ক্রয়ের রশিদ, সিম রেজিস্ট্রেশন, ফোনের আইএমই নম্বর, ফোনের সক্রিয় সিমের নাম্বার প্রভৃতি কাগজ অথবা এর ফটোকপি জিডির সাথে থানায় জমা দিয়ে হবে। এরপর ডিউটি রত অফিসার আবেদনকারীকে একটি জিডি নাম্বার প্রদান করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোবাইলটির আইএমইআই নম্বর দিয়ে ট্র্যাক করে সেটটি উদ্ধার করার চেষ্টা করবে। পরবর্তীতে যদি হারানো মোবাইল ফোনটি  খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে ওসির মাধ্যমে আবেদনকারী তা ফেরত পাবেন।


থানায় যোগাযোগ করে আপনার স্মার্টফোনের যাবতীয় তথ্য, সেটের মডেল নম্বর ও সিমের তথ্য দিয়ে কবে, কখন কীভাবে ফোনটি হারিয়ে গেল, তা বিস্তারিত জানিয়ে জিডিটি করুন। জিডির সময় যে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করতে হবে তা হলো, ফোনটির  International Mobile Equipment Identity (IMEI) নম্বর বা ফোনের সিরিয়াল নম্বর। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যম এই নম্বর দিয়ে ফোনটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব। অনেক সময় পুলিশ আপনার অভিযোগটি গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছেও হস্তান্তর করতে পারে।



হারানো মোবাইল উদ্ধারে পুলিশের সেবার বিবরণ :

  • সেবা প্রাপ্তির যোগ্যতা            :  বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক

  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র           :  আবেদন পত্র (জিডি)

  • প্রয়োজনীয় খরচ                  :  বিনামূল্যে এই সেবা প্রদান করা হয়

  • প্রয়োজনীয় সময়                  :  ২ থেকে ৭ দিন

  • কাজ শুরু হবে                     :   নিকটস্থ থানা

  • আবেদনের সময়                  :   সারা বছর যে কোন সময়

  • দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা               :   ওসি, এসআই/এএসআই

  • সেবা না পেলে কোথায় যাবেন  :  সার্কেল এ এস পি

  • বিস্তারিত তথ্যের জন্য            : ১০০ (পুলিশ কন্ট্রোল রুম), ৯৯৯ (ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক)

  • প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট           :  http://www.police.gov.bd






Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

buttons=(Accept !) days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !